মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৩

রক্তের ক্যানভাসে রাঙা শিশু আর তার প্লাস্টিকের বাটি

গাজী সাইফুল ইসলাম

পনেরো মিনিট পড়েছিল তোমার লাশটা
সদর রাস্তার সীনা বরাবর
উন্মত্ত হাতীরা তখন মুখোমুখি হয়েছিল ওখানে
তাদের পায়ের তলে পিষ্ট হলে তুমি
পিষ্ট হলো জাতিসংঘ শিশু অধিকার

বায়তুল মোকারমে মুখোমুখি হয়েছিল ওরা
সর্বনাশ দেখেছিল নিরিহ পথচারীর চোখ
গোলা-বারুদের ধোঁয়া আর ককটেল শব্দে
দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছিল চারপাশের বাতাস

পনেরো মিনিট পড়েছিল তোমার লাশটা
টুকু সময়েই পেয়ে গেলে সারাজীবনের প্রচারণা
বেঁচে থাকলে হয়তো কেউ চিনত না
নাক সিঁটকাতো ভদ্রলোক, বলত, বিরক্তিকর!
সাংবাদিকের কলম দয়া করেও
তোমার জন্য লিখতো না এক লাইন

মাত্র পনেরো মিনিট পড়েছিল তোমার লাশটা
হুমড়ি খেয়ে পড়ল মিডিয়া,
তোমার ছবি দিয়ে আঁকলো রক্তাক্ত প্র্রচ্ছদ

আহা শান্ত! কতই শান্ত না হলে তুমি
কোনোদিন আর উঠবে না, ক্ষুধার কথা বলবে না,
প্লাস্টিকের বাটিটা তোমার মুখ থোবরে
পড়েছিল পাশেই
এগারো বছর কেন একশো বছর
ওটা হাতে নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও
কেউ চিনতো না এটি
এখন চিনেছে মাত্র পনেরো মিনিটে,
রক্তের ক্যানভাসে রাঙা শিশু আর তার প্লাস্টিকের বাটি
খুব কি ক্ষুধার্ত ছিলে তুমি?

১১ বছরের শান্ত



রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৩

১১ বছরের শিশু শান্ত ইসলাম




তোমরা ফেলে যাও আমার লাশ

গাজী সাইফুল ইসলাম

তোমরা এখানে পথের ওপর একা ফেলে যাও
বুলেট ঝাঁঝরা লাশটি আমারখোলা পড়ে থাক
শীতের পালক, বর্বর তাণ্ডবে ধূলোয় লুটোনো
শহীদ মিনার
শহীদ স্মরণে না হয় আমার রক্তই আঁকবে
অজস্র আল্পনা বিজয়ের মাসে
সাজিয়ে তুলতে পিচকালো পথ
আমায় ধরো না, স্পর্শ করো না একটু ওই হাতে,
ওই হাত ঘাতকের হাত...
আবর্জনাগার ভালো এর চেয়ে পঁচে গলে জৈব সার হবো
এভাবেই শেষ করে দাও আমাদের
শুধু বায়তুল মোকারমে নয়, সারাদেশে হোক ম্যাসাকার
পথশিশু নিধনের
পথশিশু মানে পথিকের পিক
পথশিশু মানে নেই জন্ম ঠিক
পথশিশু মানে চোর বাটপার
পথশিশু মানে বুক ভাঙা তার
পথশিশু মানে জোয়ারি চিটিং
পথশিশু মানে মিছিল মিটিং
বুলেট চালাও, এদের সিনায় বুলেট চালাও
এরপর একা ফেলে যাও লাশ
ধরো না একটু ওই হাতে, বলো না ও আমাদের লোক
না কোনো দলের না কোনো অশুভ শক্তির পক্ষ আমরা
চেয়ে খাই, কিংবা শ্রমের বিনিময়ে আধা পেট
এরপরও বুলেট এসে ভেঙে দিলে বুক
রাজপথে খুঁজে নিই জীবনের সুখ
ফেলবে না জানি কেউ দুফোঁটা চোখের পানি









বৃহষ্পতিবার, ৭ জুন, ২০১২

gazisaifulkotha: রক্ত পরীক্ষা করে বিয়ে করুন থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ...

gazisaifulkotha: রক্ত পরীক্ষা করে বিয়ে করুন থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ...:   গাজী সাইফুল ইসলাম ( ১ ) রক্ত দিন জীবন বাঁচন রক্ত দিন জীবন বাঁচন। থ্যালাসেমিয়া রোগিদের জন্য আপনাদের ত্যাগ স...

বিয়ে করুন রক্ত পরীক্ষা করে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ করুন



 গাজী সাইফুল ইসলাম

()

রক্ত দিন জীবন বাঁচন

রক্ত দিন জীবন বাঁচন। থ্যালাসেমিয়া রোগিদের জন্য আপনাদের ত্যাগ স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দেশে কত জন থ্যালাসেমিয়া রোগি আছে আমরা কেউ জানি না। কিন্তু এটা জানি যে, সচেতেনতার অভাবে প্রতিদিন জন্ম হচ্ছে অসংখ্য থ্যাসেমিয়ার রোগি। তাদের জন্য প্রতিদিন প্রচুর রক্তের প্রয়োজন হয়। আর এই চাহিদা মিটাতে গিয়ে খরচ হয়ে যায় দেশে আহরিত বেশিরভাগ রক্ত।


Tohfa islam, a patient of Thalassemia
Thalassemia (British English: thalassaemia) 

()

বিয়ে করুন রক্ত পরীক্ষা করে

তরুণ-তরুণী বন্ধুরা, বিয়ে করুন রক্ত পরীক্ষা করে। দয়া করে বিয়ের আগেই রক্ত পরীক্ষা করুন, দেখুন আপনি থ্যাসেমিয়ার ক্যারিয়ার কিনা। পরীক্ষার নাম-হিমোগ্লুবিন ইলেক্ট্রোপ্রোসিস, বারডেমে, পিজিতে, সেনাহাসপাতালে আইসিডিডিআরবিতে পরীক্ষা হয়। ৪০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা খরচ পড়বে। বিবাহিত জীবনে ভয়ানক  সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য বিয়ের পূর্বেই প্রেমিকা-প্রেমিকারা ঢুকে পড়ুন একটি হাসপাতালে। বাংলাদেশে প্রতি হাজারে ০৭ জন লোক থ্যালাসেমিয়ার ক্যারিয়ার। রক্ত পরীক্ষ করে বিয়ে করার জন্য অপরকেও উৎসাহিত করুন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে রোগটি ভয়াবহ পারিবারিক সমস্যা সৃষ্টি করবে। মনে রাখবেন, একটি পরিবারে একটি থ্যালাসেমিয়া রোগির জন্ম হওয়া মানে সারাজীবনের জন্য ওই পরিবারের সুখ-শান্তি শেষ হয়ে যাওয়া। এতে পরিবারটি শুধু আর্থিক সংকটেই নিপতিত হয় না-প্রিয়জন হারানোর ভয়েও সবসময় আতঙ্কিত থাকে। এবং শেষমেশ একদিন তাদের হারিয়ে সারাজীবন চোখের জলে ভাসে।
Blood donate for life


সোমবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১১

Three children verse

তিনটি ছড়া

গাজী সাইফুল ইসলাম

মহতের গান


যার হাত নেই পা নেই অচল অসার
আমি হই তার পা কখনো বা হাত
যার দু'টি চোখ নেই তার বন্ধু হই আমি
ভালোবেসে তার সঙ্গে কাটাই সারারাত।


যার ঠাঁই নেই ভাই নেই হতাশায় কাতর
ব্যথার পাহাড় বুকে হয়েছে পাথর
আমি কেবল তাকেই খুঁজে বেড়াই
আপন ভাইয়ের মতো বেঁধে দিই ঘর।


যার সাধ্য নেই আধা মন বোঝা বহার
তার কাঁধে তুলে দিলে বিশাল পাহাড়
লজ্জিত হই আমি, আপনজনের মতো
পেতে দিই কাঁধ সয়ে নির্মমের অত্যাচার।


যার স্বপ্ন নেই প্রেম নেই ভাষা নেই
আমি হই তার স্বপ্ন- প্রেম-ভাষা
সহস্র বছরের বোবা অসহায় চোখে মুখে তার
তখন জেগে উঠে কী যে আনন্দ খাসা।


স্বজনহারা মানুষের পাশে দাঁড়াবই আমি
কী পেলাম বা পেলাম না ভাবব না তা
কারও প্রয়োজন নেই আমার যখন আমি হবো সবার
নিন্দুকেরা যাই বলুক-সত্য জানে অন্তরাত্মা।


অন্ধের ব্যথা


একদিন একটি অন্ধ ভিক্ষুক
গাইল ট্রেনে গান
তাহার গানের কথা শুনে
কাঁদল আমার প্রাণ।


অন্ধ হয়ে ধরার মাঝে
কোন ভাগ্যে যে এলাম
কাঁটার আঘাত লাঞ্ছনা কত
পদে পদে পেলাম।


অন্ধজনে দাও আলো
তোমরা যতই বলো
কিন্তু কেউই হও না আপন
পাশ কাটিয়ে চলো।


তাইতো বলি বুঝতে হলে
অন্ধের ব্যথা আগে
অন্ধ সেজে দেখতে হবে
কষ্ট কত লাগে।


এরপরই না দয়ার কুসুম
ফুটবে হৃদয় বাগে
হাত বাড়াবে অন্ধের দিকে
গভীর অনুরাগে।


বাড়ির পাশে বিল


বাড়ির পাশে ইয়া বড় বিল
নামটি তাহার আশি
ইচ্ছে করলেই আপন মনে
কলার ভেলায় ভাসি।


কিন্তু যখন ছো্ট্ট ছিলাম
আম্মু করতেন রাগ
বিলে যাওয়ার কথা শুনলেই
আব্বু সাজতেন বাঘ।


একবারে এক বর্ষার দিনে
হাঁসের সঙ্গ ধরি
ঝাঁপটি দিলাম বিলের জলে
আহ্ খুশিতে মরি।


হঠাৎ কখন আব্বু এসে
ধরলেন চেপে ঘাড়
দাদীর বারণ সত্ত্বেও দিলেন
ইচ্ছেমতো মার।


পিটুনি খেয়েও ভুলিনি তো
সেই না স্রোতের পাক
অনেক দূরেও বসে যে আজ
শুনি তাহার ডাক।

বিঃ দ্রঃ
প্রিয় পাঠকদের প্রতি আহ্বান
আমার লেখা পড়ুন, ডিটেলস মন্তব্য লিখুন এবং সেন্ড করুন আমার ইমেইল ঠিকানায়। আমি ফেসবুকে পোস্ট করে দেব মন্তব্যকারী লেখকের ছবিসহ। আমার ঠিকানা:gazisaiful@gmail.com

বুধবার, ২০ এপ্রিল, ২০১১

World Father's Day/poems on my father

        বিশ্ব বাবা দিবসের কবিতা

              আমার বাবা

            গাজী সাইফুল ইসলাম

 মোঃ আক্কেল আলী












          আমার বাবা লেখাপড়া না জানা খুব সাধারণ একজন বাবা
          আমি তাঁকে আমার স্বপ্নের কথা বলি
          কিন্তু মনে হয় না তিনি-এসব বোঝেন
          তিনি বলেন, কিছু জমি কিনলে না বাপ?
          মাঠের সব ভালো জমি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে...
          বলি, দু'নাম্বার পথে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়
          তিনি বলেন, শহরেই না হয় একটা বাড়ি কর
          আমি বলি, কীভাবে? যা বেতন পাই...
          তিনি বলেন, দেখ, জীবন চলে যাচ্ছে,
          এখন কিছু করতে না পারলে পরে পস্তাবি
          আমার ইচ্ছা হয়, কী করতে পারলি দেখে যাই
          ইদানিং প্রায়শই বাবা তাঁর যাবার কথা বলেন
          ভেতরে ভেতরে আৎকে উঠি আমি
          নিজের ওপর খুব রাগ হয়-
          বাবাকে কিছু করে দেখাতে পারি না
          সমবয়সীরা অনেকেই অনেককিছু করেছে-
          আমি রয়ে গেছি সেই হাভাতে, হাপিত্যেশেই
          রাগ হয় বাবার ওপরও
          তিনি বুঝতে চান না কেন-সবার ওপর ভাগ্য লক্ষ্মি
          সমান সুপ্রসন্ন থাকে না
          আবার এটাও বুঝি যে, বাবা আমার মঙ্গল চান
          বাবাকে বোঝাতে চেষ্টা করি, বলি,
          দেখো, দু'টি সন্তান আমার অসুস্থ, থ্যালাসেমিয়ার রোগী 
          এদের চিকিসা...
          বাবা গায়ে মাখেন না। ( হয়তো মনে মনে বলেন, যারা
          মারা যাবে তাদের নিয়ে ভেবে কী লাভ-ভাবতে হবে যারা বেঁচে
          থাকবে-তাদের নিয়ে )
          বাবা কখনো জানতে চান না ওদের চিকিসা কীভাবে হয়
          রক্ত কতটুকু-কতদিন পরপর লাগে? এসব বিষয়ে
          কোনো আগ্রহ নেই তাঁর
          তিনি বৃদ্ধ হয়েছেন, এখনো দিনমান কাজ করেন
          তিনি চান, 'সন্তানের সবাই জমিবাড়ির মালিক হোক
          তিনি বলেন, আমি একলা খেটে জমি কিনেছি
          তোদের খাইয়ে পরিয়ে বড় করেছি-
          বাবাকে বোঝাই, সময়টা জটিল...
          তিনি বলেন, সকল সময়ের লোকেরা মনে করেছে
          তাদের সময়টা জটিল, নিষ্ফলাএসব কথা বলে
          বোকারা হাত গুটিয়ে থেকেছে
          আর বুদ্ধিমানরা দু'হাত ভরে তুলে নিয়েছে দুনিয়ার সম্পদ
          কী বলব-বুঝতে না পেরে বোকার মতো চেয়ে থাকি
          বাবার মুখের দিকে...

বিঃ দ্রঃ      
প্রিয় পাঠকদের প্রতি আহ্বান: আমার সব লেখা পড়ুন, ডিটেলস মন্তব্য লিখুন এবং সেন্ড করুন আমার ইমেইল ঠিকানায়। আমি ফেসবুকে পোস্ট করে দেব মন্তব্যকারী লেখকের ছবিসহ। আমার ঠিকানা:gazisaiful@gmail.com